বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে সামনের দিনগুলোয় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে স্বর্ণের চাহিদা। এ কারণে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে মরগান স্ট্যানলি। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক ক্রয় ও স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ঊর্ধ্বমুখী বিনিয়োগপ্রবাহ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ধারাকে ত্বরান্বিত করবে।
ব্যাংকটি আরো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বর্ণের বাজারে অতিরিক্ত ক্রয়চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে এখন দাম কিছুটা কমে আসায় তা তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, সুদহার কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া আগের চেয়ে ধীরগতিতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অলঙ্কার খাতে চাহিদাও স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যাংকটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনাও কিছুটা রয়েছে। মূল্যে অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য সম্পদে ঝুঁকতে পারে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের রিজার্ভ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
চলতি বছর স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে ৫৪ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি একাধিকবার সর্বোচ্চ রেকর্ড অতিক্রম করেছে। মরগান স্ট্যানলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর স্বর্ণের দাম মূলত ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদহার কমার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় ও স্বর্ণভিত্তিক ইটিইএফে শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহের ফল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানো নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে স্বর্ণের দাম কমেছে ১ শতাংশ। তবে মূল্যবান ধাতুটির দাম এখনো টানা তৃতীয় মাসের মতো বৃদ্ধির পথে রয়েছে। শুধু অক্টোবরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
স্পট মার্কেটে শুক্রবার স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১ ডলার ৭৪ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৯৬ ডলার ৫০ সেন্টে স্থির হয়েছে।
ফেডের ক্লিভল্যান্ড শাখার প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক জানান, তিনি গত সপ্তাহে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডের এখনো কিছুটা কঠোর অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
মেটাল অ্যানালিস্ট টাই উয়াং বলেন, ‘হ্যাম্যাকের অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’
গত বুধবার ফেড সুদহার কমালেও চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ‘কড়া মন্তব্য’ বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে আরেকবার সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এখন ৬৩ শতাংশ, সপ্তাহের শুরুতে যা ছিল ৯০ শতাংশের বেশি।